mito family

অতীতের আলোকে “আমরা জানি” আগামীতেও যখন কোন সংখ্যা লঘু, বিদেশী বা কোন আলোচিত হত্যা কান্ড সংঘটিত হবে তখন-

প্রধানমন্ত্রী বলবেন: এই হত্যা কান্ডের পিছনে জামাত শিবির বা বিএনপির হাত রয়েছে।

মন্ত্রীগন বলবেন: জেএমবি, মৌলবাদী জামাত শিবির বা বিএনপির সন্ত্রসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের আটক করা হবে।

এবার সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে পুলিশ বলবে: ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩জনকে আটক করা হয়েছে (নতুন জজ মিয়া নাটক) এবং তাদের কাউকে নিয়ে অভিযানে গেলে সে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলার সময় বন্দুক যুদ্ধে সে নিহত হয়েছে (হামলা কারীরা সাধারনত মারা যায় না বা ধরাও পরে না)। তারা সবাই জেএমবি বা জামাত শিবির বা বিএনপির শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে ধারনা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা বাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্ব পূর্ন তথ্য পাওয়া গেছে (জজ মিয়ার কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। আর এসব তথ্য কোনদিন জনগন জানতে পারবে না)।

অতপর, সজিব ওয়াজেদ জয় বলবেন: বিএনপি জামাত ও মৌলবাদীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে। পুলিশ উক্ত ঘটনার সাথে জরিত সন্দেহে জামাত বিএনপির দুজনকে আটক করেছে এটাই তার বড় প্রমান।

সংবাদ মাধ্যমগুলি বলবে: সংবাদ মাধ্যমগুলিও উপরের সুত্র ধরে টেনে হেঁচরে একই ঢোল বাজাতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না এতে জনগনের বদ হজম হয়।

এর মাঝে, বরাবরের মত বিচাররের দাবিতে বিফল মানব বন্ধনে মূল অপরাধীরা হয়ত হাঁসতে হাঁসতে চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে কেঁদে কেঁদে মানব বন্ধনের নেতৃত্ব দিবে।

 

এবার ব্যাক্তিগত ইর্ষার কারনে, স্বার্থের দন্দে, রাজনৈতিক কারনে বা দেশকে অস্তিতিশীল করার উদ্দেশ্যে যে কোন ব্যাক্তি বা পেশাদার খুনি বা সন্ত্রাসী পুর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে উপরোক্ত “আমরা জানি” তথ্যের উপর পূর্ন আস্থা রেখে আবার নতুন করে বিচ্ছিন্ন কারনে একক ভাবে, উদ্দেশ্য মূলক ভাবে একক বা দলগত ভাবে একেরপর এক হীন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে চলবে। আর প্রসাশন শুধু ‘আমরা জানি’ তথ্যের মাঝেই ঘুরপাক খাবে। 

 

ঘটনার শিকার হতে পারে সংখ্যা লঘু, বিদেশী, সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যাক্তি কিংবা পুলিশও এবং হচ্ছেও। তারপরও প্রশাসন উপরোল্লেখিত “আমরা জানি” সুত্রের বেড়াজালেই বন্দী থাকবে অথচ খুনী বা সন্ত্রাসীরা হয়ত বরাবরই রয়েছে সেই “আমরা জানি” সুত্রের বাইরে।

সেজন্যেই তো আজো ধরা যায়নি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের, তনু হত্যার বিচার থমকে গেছে, ব্লগার হত্যার মূল খুনিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে, এমনি ভাবে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার বিচারও হয়ত আটকা পরবে ‘আমরা জানি’ তথ্যের ফ্রেমে।

 

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, দেশ এই ‘আমরা জানি’ সুত্র থেকে বের হবে কি ভাবে? ঘটনাতো বিভিন্ন কারনে, ভিন্ন মাধ্যমে, ভিন্ন কৌশলে হতে পারে। একটি দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই কোন তদন্ত হওয়া আগেই যদি দেশের সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যাক্তি, সুষ্ঠু বিচারের ভার যার হাতে ন্যাস্ত সেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রীগন বলতে থাকেন এ ঘটনার সাথে জেএমবি, জামাত শিবির বা বিএনপি জড়িত তাহলে পুলিশ নিশ্চই মুল সন্ত্রাসীদের বাদ দিয়ে উনাদের ব্যক্তব্যে সুত্র ধরে জামাত শিবির, বিএনপি নেতা কর্মীদেরকেই ধাওয়া করবে এবং বাস্তবে এমনটাই তো হচ্ছে তাইতো ধরা পরে না আসল অপরাধী। সম্ভব হলে পুলিশ কাউকে জজ মিয়া বানাবে না হয় অপরাধীদের না পেয়ে তদন্ত ও বিচার এভাবেই একদিন থমকে যাবে। 

 

একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে প্রশাসনকে এই জেএমবি, জামাত শিবির ও বিএনপির মাঝে আটকে রেখে তাদের চোখের আড়ালে আরও বড় এবং ভংঙ্কর কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জেগে উঠার পথকে পরিষ্কার করে দিচ্ছে কি না সেটা এখনই ভেবে দেখার সময়।

সারা বিশ্বে যখন বাংলাদেশে আইসিস (ISIS) উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আমরা অস্বীকার করলেও চোখ খুলে দেখা উচিত ধ্বংস প্রায় সন্ত্রাসী সংঘটন জেএমবি’র ভিত্তির উপর ভর করে আড়ালে বা অন্য কোন পথে, মাধ্যমে, অন্য নামে আইসিস, আল-কায়দা বা অন্যকোন সন্ত্রসী সংঘটন ঘাঁটি করছে কি না।

সত্যি এমনটা হলে এই ‘আমরা জানি’ তথ্য সয়ং এই তথ্য প্রনেতাদের গলাতেই আগে কাঁটা হয়ে বিধবে। আর আমরা জনগন তো আগে পরে সব সময় নাচের পুতুল হয়েই থাকব। তাই বিষ কাঁটা হয়ে বিধাঁর আগেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের উদ্দেশ্যে প্রনেত এসব “আমরা জানি” নামক তথ্যগুলির বাঁধনটা ভেঙে দিয়ে আপনাদের পথের কাঁটা আপনারাই সারান। আর “আমরা জানি না” এমন কিছুর মুখোশ উন্মোচন করে আমাদেরকে ভাল কিছু জানান। জানেনই তো জনগন সবসময় সব ভাল কাজে পাশে আছে।

লেখক পরিচিতি
এম, এইচ, মিনহাজ
আমি বিভিন্ন বাংলা/ইংরেজী ব্লগের একজন অনিয়মিত এবং সখের ব্লগার। তবে নিয়মিত লেখার ইচ্ছে থাকলেও অনিয়মিত ভাবেই পাঠকদের বিরক্ত করে থাকি। আমার লেখার বিষয়বস্তু- যা মনে আসে তাই। কারও কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার জন্য লিখি না। কেউ আমার লেখা পছন্দ করলে খুশি হই তবে অপছন্দ করলেও লেখালেখি বন্ধ করার কোন অবকাশ নেই, কারন আমি একান্ত সখের বশেই লেখালেখি করি।
আমার ব্লগ সমুহ:

আপনার মতামত দিন


সিকিউরিটি কোড
রিফ্রেশ